বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা প্রক্রিয়া শুরু আগামী মাসেই

লেখা পড়া

আগামী মাসে শুরু হচ্ছে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতির কার্যক্রম। বুধবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতেই বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল। চারটি বিশ্ববিদ্যালয় পরে তাদের অবস্থান জানাতে চেয়েছে। এরা অংশ না নিলেও কেন্দ্রীয়ভাবেই ভর্তি পরীক্ষা হবে বলে জানা গেছে।

১ এপ্রিল শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই আসন্ন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের পরীক্ষা শুরুর এক মাস আগেই উচ্চশিক্ষার অ্যাপেক্স বডি ইউজিসি ভর্তির প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করতে চাইছে। যে কারণে একের পর এক বৈঠক করছে সংস্থাটি।

এর অংশ হিসেবেই বুধবারের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এখনও নানা অজুহাত দেখাচ্ছে দেশের পুরনো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ভর্তি পদ্ধতির সঙ্গে ওইসব বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিমত পোষণ না করলেও সহমত পোষণ করেনি বলে জানা গেছে। বরং নিজ নিজ একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলে গেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা।

২০০৮ সালে এ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরুর পরও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসিরা সরাসরি বিরোধিতা করেননি। তারা নিজ নিজ সংশ্লিষ্ট পর্ষদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলে গেছেন। পরে কেউ নেতিবাচক সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আবার কেউ সিদ্ধান্ত না জানিয়ে আলাদা ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছেন। এভাবে ভেস্তে গেছে সমন্বিত বা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ।

এবারও এখন পর্যন্ত পুরনো ও বড় হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই সিদ্ধান্ত জানানোর ব্যাপারে আগের প্রক্রিয়ায় আছে। অর্থাৎ, কেউই চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। বরং তারা বলেছে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে।

বুধবারের বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিতদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি উপস্থিত ছিলেন না।

বৈঠক শেষে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো, আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা করে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। একই ধরনের কথা বলেছেন চবি, জাবি ও বুয়েটের ভিসিও। জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ইতিবাচক পরিবেশে খোলা আলোচনা হয়েছে। কেউ কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেননি। আপত্তিও করেননি। বরং কুমিল­া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী এ বিষয়ে একটি উপস্থাপনা করেছেন। সেটি অত্যন্ত সুন্দর। তিনি বলেন, আমি আশাবাদী সবার অংশগ্রহণে এ বছরই কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা চালু হবে। আর যদি দু-একটি নাও আসে তাহলে আমাদের বসে থাকার সুযোগ নেই। কেননা- ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে এ কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হচ্ছে। এটাই যুগের চাহিদা। কেউ পিছিয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি না।

জানা গেছে, বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী দু-চার দিনের মধ্যে ইউজিসি কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে একটি রোডম্যাপ তৈরি করবে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে কিভাবে ও কোন পদ্ধতিতে এ পরীক্ষা হবে, সেটি নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া সফটওয়্যার তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী ভর্তির শর্ত ও যোগ্যতা নির্ধারণ, কমিটি গঠনসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করা হবে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম, অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। ভিসিদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুস সোবহান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন আহম্মদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এবং কুমিল­া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির এক সভায়ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। যদিও এর আগে ২৩ জানুয়ারি ইউজিসি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল। তবে ভিসিরা সমন্বিতের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ইউজিসি সেটিকে স্বাগত জানায়।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, তাদের প্রস্তাবটি ভালো। আমরা সেটি গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, ভর্তির এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইউজিসি সর্বাÍক সহযোগিতা করবে। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হবে। ভর্তি পরীক্ষার রূপরেখা ও পরীক্ষা পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয় যথাসময়ে জানানো হবে।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *